April 19, 2026, 11:25 pm

টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না বেনাপোল কাস্টমসে

বেনাপোল প্রতিনিধি: পণ্য খালাশে সময়ক্ষেপণ, সিএন্ডএফ কমর্চারিদের সাথে দুর্ব্যবহার, ফাইল আটকিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায়ের মহোৎসব চলছে বেনাপোল কাষ্টমসে। কাষ্টমসের এসব অনাচারের প্রতিবাদ করে লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত হয়েছে অনেক মালিকের। আর কর্মচারিদের পারমিট বাতিল হচ্ছে হরহামেশা।

সিএন্ডএফ এজেন্টরা জানান, রাজস্ব জোগানে সিএন্ডএফ এজেন্টরা সহযোগী হলেও কতিপয় কর্মকর্তার সাথে সম্পর্ক সাপের নেউলের মত। লাইসেন্সিং বিধিমালার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন আসাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে যাচ্ছে। কথায় কথায় লাইসেন্স সাসপেন্ড এবং কর্মচারীদের কার্ড বাতিল করা ট্রাডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি কোন অনিয়ম হয় সে ক্ষেত্রে দু’পক্ষ দোষী হলেও শাস্তি ভোগ করে শুধু সিএন্ডএফ এজেন্টরা। বছরে ১০ /২০ টা লাইসেন্স বাতিল হলেও একজন কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী চাকুরিচ্যুত হয় না।

পণ্য খালাশের ফাইল নিয়ে কতিপয় কর্মকর্তার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকাটা দুঃখজনক। কোন কোন কর্মকর্তা তাদের কক্ষে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে বেশ বাড়াবাড়ি করেন। মালিক কর্মচারিদের সাথে তাদের ব্যবহারও পীড়াদায়ক । দীর্ঘদিন একই চেয়ারে বসে থাকার কারনে কর্মকর্তারা হয়ে উঠেছেন বেপরোয়া। সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ দফায় দফায় ডেপুটি কমিশনার শামীম হোসেন, ডেপুটি কমিশনার অনুপম চাকমা, সহকারি কমিশনার আন্জুমানারা’র নামে কমিশনার আজিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত কমিশনার নেয়ামুল ইসলামের নিকট একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও কোন ফল পাননি বরং উৎকচের পরিমান ফাইল প্রতি ৫ হাজার থেকে ১০ হাজারে ঠেকেছে। সাথে কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার বেড়েছে দ্বিগুন। কাষ্টমস হাউজে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ডেপুটি কমিশনার শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে। ফাইল আটকিয়ে টাকা আদায় করা, টাকা না পেলে মনগড়া নোট দেয়া, ৩ দিন পর্য্যন্ত ফাইল আটকে রাখা তার নিত্যদিনের অভ্যাস। কর্মচারী ইউনিয়নের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার দাবি জানিয়ে বলেন, বেনাপোলের বড় বড় সাংবাদিকরা সিএন্ডএফ ব্যবসা করেন তাই ভয়ে দুর্নীতিবাজ কাষ্টমস দের নামে লেখেন না। টাকা ছাড়া কোন ফাইল উনাদের রুম থেকে বের হয় না। বিশেষকরে শামীম হোসেনের রুমের সামনে রাত ৯ টা পর্য্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও উনার মেলেনা। অদৃশ্য কারনে উনি বেনাপোলে যোগদানের পর থেকে বছরের পর বছর একই চেয়ারে রয়ে গেছেন। অথচ উনার পরে যোগদান করে অন্য কর্মকর্তা এখনো পরীক্ষণ গ্রুপে কাজ করে যাচ্ছেন। অবিলম্বে উনার দপ্তর পরিবর্তন করা না হলে কর্মচারীরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।

এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার আজিজুর রহমান জানান ডেপুটি কমিশনার শামীমুর রহমানকে আইআরএ ও অনুপম চাকমাকে শুল্কায়ন গ্রুপে বদলী করা হয়েছে। তিনি কাস্টমসের বিরুদ্ধে সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা